ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নোয়াখালীতে চার ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরি, ২৫ ভরি স্বর্ণসহ ১০ লাখ টাকা লুট Logo নোয়াখালীতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে দোয়া ও মেজবানি Logo নোয়াখালীতে তার চুরিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২৫ Logo নোবিপ্রবিতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালন Logo Logo বিয়ের ১০ বছর পর ৭ সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ Logo নোয়াখালীতে অটোরিকশায় মাইক বেঁধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া সেই যুবক আটক Logo নোয়াখালীর চাটখিলে ওজনে কারচুপি, মৎস্য আড়তকে জরিমানা Logo নোয়াখালীতে ছাড়পত্রহীন মুরগির খামার: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে ঝুঁকি? Logo নোয়াখালীতে ছেলের নির্যাতনের অপমান সইতে না পেরে বাবার মৃত্যু, বাড়িছাড়া মা;

চাটখিলে গত এক বছরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ব্যবসায়ীকে , ইটভাটায় পুড়িয়ে হ-ত্যার আশঙ্কা স্বজনদের

হাছান আহমেদ

চাটখিলে গত এক বছরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ব্যবসায়ীকে , ইটভাটায় পুড়িয়ে হ-ত্যার আশঙ্কা স্বজনদে

চাটখিল টিভি ডেস্কঃ
নোয়াখালীর চাটখিলে জাবেদ হোসেন (৩৫) নামে এক ইটভাটা ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো মেলেনি সন্ধান। স্ত্রী ও স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর হত্যা এবং প্রমাণ নষ্ট করতে লাশ ইটভাটায় পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পর নিখোঁজ রহস্যে উদঘাটনের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় পুরো ঘটনা ঘিরে রহস্য ও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্বজনরা।
নিখোঁজ জাবেদ হোসেনের পরিবার জানায়, গত বছরের ১৩ মার্চ বিকেলে ব্যবসার আলোচনার কথা বলে জাবেদ হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়। প্রথমদিকে বিষয়টি নিখোঁজ হিসেবে দেখা হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপহরণ ও হত্যার আশঙ্কা জোরাল হতে থাকে।

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের পরদিনই স্থানীয়ভাবে খবর ছড়ায় জাবেদকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশ নাহারখিল এলাকার একটি ইটভাটায় নিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে।

যদিও এ দাবির পক্ষে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে পরিবার দাবি করছে।

নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হলেও শুরুতে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং নিখোঁজ জাবেদের লাশ বা ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা যায়নি। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের একটি অংশ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীর অভাবে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তারা বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে রয়েছেন,নিখোঁজ জাবেদ হোসেনের পরিবার বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তার স্ত্রী তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। হুমকির কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা র‍্যাব বা পিবিআইয়ের মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন, যেন প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজের স্ত্রী শারমিন আক্তার রূপা জানান, ‘অপহরণের পর আমার স্বামী জাবেদ হোসেনকে ইটভাটায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পারছি।এই হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত খুনি রাশেদ আর আশরাফ আমি আমার স্বামী হত্যাকারী এই খুনিদের বিচার চাই।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে মেয়ে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। এই ঘটনার বিচার চাইতে গেলে খুনিরা আমাকে ও আমার সন্তানদের হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছি। আমি এসব বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের কাছে বিচারের দাবি জানাই। মানবিকভাবে হলেও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
২৯৬ বার পড়া হয়েছে

চাটখিলে গত এক বছরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ব্যবসায়ীকে , ইটভাটায় পুড়িয়ে হ-ত্যার আশঙ্কা স্বজনদের

আপডেট সময় ১১:০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

চাটখিলে গত এক বছরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ব্যবসায়ীকে , ইটভাটায় পুড়িয়ে হ-ত্যার আশঙ্কা স্বজনদে

চাটখিল টিভি ডেস্কঃ
নোয়াখালীর চাটখিলে জাবেদ হোসেন (৩৫) নামে এক ইটভাটা ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো মেলেনি সন্ধান। স্ত্রী ও স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর হত্যা এবং প্রমাণ নষ্ট করতে লাশ ইটভাটায় পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পর নিখোঁজ রহস্যে উদঘাটনের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় পুরো ঘটনা ঘিরে রহস্য ও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্বজনরা।
নিখোঁজ জাবেদ হোসেনের পরিবার জানায়, গত বছরের ১৩ মার্চ বিকেলে ব্যবসার আলোচনার কথা বলে জাবেদ হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়। প্রথমদিকে বিষয়টি নিখোঁজ হিসেবে দেখা হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপহরণ ও হত্যার আশঙ্কা জোরাল হতে থাকে।

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের পরদিনই স্থানীয়ভাবে খবর ছড়ায় জাবেদকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশ নাহারখিল এলাকার একটি ইটভাটায় নিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে।

যদিও এ দাবির পক্ষে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে পরিবার দাবি করছে।

নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হলেও শুরুতে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং নিখোঁজ জাবেদের লাশ বা ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা যায়নি। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের একটি অংশ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীর অভাবে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তারা বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে রয়েছেন,নিখোঁজ জাবেদ হোসেনের পরিবার বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তার স্ত্রী তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। হুমকির কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা র‍্যাব বা পিবিআইয়ের মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন, যেন প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজের স্ত্রী শারমিন আক্তার রূপা জানান, ‘অপহরণের পর আমার স্বামী জাবেদ হোসেনকে ইটভাটায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পারছি।এই হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত খুনি রাশেদ আর আশরাফ আমি আমার স্বামী হত্যাকারী এই খুনিদের বিচার চাই।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে মেয়ে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। এই ঘটনার বিচার চাইতে গেলে খুনিরা আমাকে ও আমার সন্তানদের হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছি। আমি এসব বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের কাছে বিচারের দাবি জানাই। মানবিকভাবে হলেও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’